وَأَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَلَا تَنَٰزَعُوۤا۟ فَتَفۡشَلُو۟ا۟ وَتَذۡهَبَ رِيحُكُمۡۖ وَٱصۡبِرُوۤا۟ۚ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّٰبِرِينَ
অর্থ: আর আল্লাহর আনুগত্য কর এবং পরস্পর বিরোধ করো না, পাছে তোমরা দুর্বল হয়ে পড় এবং তোমাদের শক্তি লাভ হয়ে যায়; এবং তোমরা ধৈর্য ধারণ কর, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। (সূরা আনফাল: ৪৬)
• যদি কেউ আল্লাহর রাস্তায় চলার চেষ্টা করে, দাওয়াত দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে শয়তান তাকে ভিতর থেকে আক্রমণ করে,
• যখনই মুসলমানদের পতন হয়েছে ভিতরগত দ্বন্দ্ব থাকার কারনেই, যা উদ্ধৃত হয়েছে সুরা আনফালের ৪৬ নং আয়াতে,
• এই আয়াতটা আমাদের বলে ভিতরের বিষয়গুলোই বেশি ক্ষতিকারক
* এই ক্ষেত্রে ১০ টি এমন বিষয় আছে যেগুলো আল্লাহর রাস্তায় কাজ করার জন্য এবং মুসলিম উম্মাহর বিজয় নিশ্চিত করার জন্য,
১/ নিয়তের যদি মৃত্যু ঘটে এবং এখলাসের যদি ব্যত্তয় ঘটে,
যার সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত সুরা বাইয়িনার ৫ নং আয়াতে,
وَمَاۤ اُمِرُوۡۤا اِلَّا لِیَعۡبُدُوا اللّٰہَ مُخۡلِصِیۡنَ لَہُ الدِّیۡنَ ۬ۙ حُنَفَآءَ وَیُقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَیُؤۡتُوا الزَّکٰوۃَ وَذٰلِکَ دِیۡنُ الۡقَیِّمَۃِ ؕ (৯৮,৫)
অর্থ: আর তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেয়া হয়েছিল যে, তারা যেন একনিষ্ঠ হয়ে আল্লাহর ইবাদেরত করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত দেয়; আর এটাই হল সঠিক ধর্ম। (সূরা বাইয়িনা: ৫)
• সহিহ হাদিসে এসেছে, আল্লাহর রাসুল
সা: বলেছেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “ إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ إِلَى امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَجَرَ إِلَيْهِ
অর্থ *
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ আমলসমূহের (মূল্য ও প্রাপ্য) নির্ভর নিয়তের উপর। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করেছে। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হিজরত করবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য বলে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে কিংবা কোন মহিলাকে বিবাহ করার জন্য হিজরত করবে, তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে, যার জন্য সে হিজরত করেছে। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১)
২/ অহংকার,
• এটা অনেক বড় রোগ, যদি সব জাগায় নিজের অধিকার খুজতে যাই তাহলে তাহলেই ঐক্য নস্যাৎ হবে এবং ফাটল সৃষ্টি হবে,
* ইবনুল কাইয়ুম র. বলেন সবজায়গায় আত্যমর্যাদা তালাশ করা শয়তানের বড় অস্ত্র,
* হাদিসে এসেছে,
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو حَصِينٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ “ لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ ” . قَالَ رَجُلٌ إِنَّ الرَّجُلَ يُحِبُّ أَنْ يَكُونَ ثَوْبُهُ حَسَنًا وَنَعْلُهُ حَسَنَةً قَالَ “ إِنَّ اللَّهَ جَمِيلٌ يُحِبُّ الْجَمَالَ، الْكِبْرُ بَطَرُ الْحَقِّ وَغَمْطُ النَّاسِ ”
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেছেনঃ যার অন্তরে এক বিন্দু পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, মানুষ তো চায় যে, তার পোশাক সুন্দর হোক, তার জুতা সুন্দর হোক, এটাকেও কি অহংকার বলা হবে? তিনি বললেনঃ আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন। অহংকার হচ্ছে হককে (সত্যকে) অস্বীকার করা এবং লোকদেরকে অবজ্ঞা করা। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৬৬)
* হাদিসে কুদসিতে এসেছে জনাব রাসুল সা :বলেন
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ “ احْتَجَّتِ النَّارُ وَالْجَنَّةُ فَقَالَتِ النَّارُ فِيَّ يَدْخُلُ الْجَبَّارُونَ وَالْمُتَكَبِّرُونَ. وَقَالَتِ الْجَنَّةُ فِيَّ يَدْخُلُ الضُّعَفَاءُ وَالْمَسَاكِينُ. فَقَالَ اللَّهُ لِلْجَنَّةِ أَنْتِ رَحْمَتِي أَرْحَمُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ مِنْ عِبَادِي، وَقَالَ لِلنَّارِ أَنْتِ عَذَابِي أُعَذِّبُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ مِنْ عِبَادِي، وَلَكِ عَلَىَّ مِلْؤُكِ. قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ الْقَاصِصِي عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ “ الْكِبْرِيَاءُ رِدَائِي، وَالْعَظَمَةُ إِزَارِي، فَمَنْ نَازَعَنِي وَاحِدًا مِنْهُمَا أَلْقَيْتُهُ فِي النَّارِ”.
আবদুল্লাহ ইউনাইস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, জাহান্নাম ও জান্নাত পরস্পর ঝগড়া করে। জাহান্নাম বলে, জাব্বার ও অহংকারীরা আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। জান্নাত বলে, দুর্বল ও মিসকিনরা আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। তখন আল্লাহ জান্নাতকে বলেন, তুমি আমার রাহমাত। তোমার দ্বারা আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা রাহমাত করব। আর তিনি জাহান্নামকে বলেন, তুমি আমার আযাব। তোমার দ্বারা আমি যাকে ইচ্ছা আযাব দেব। আর তোমার পূর্ণতা তো এটাই যে, তুমি পূর্ণ হয়ে যাবে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) নবী (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহ বলেন, অহংকার আমার চাদর, আর বড়ত্ব আমার ইজার। যে কেউ এ দু’টির একটি নিয়েও আমার সাথে ঝগড়া করবে, তাকে আমি জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬৯৫২)
৩/ অন্ধ আনুগত্য চলে আসা ব্যাক্তি বা সংগঠন যদি দ্বীন বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং তার যদি আনুগত্য করা হয় তখনও উম্মাহর বিজয় নিশ্চিত হবেনা,
* এই ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা সুরা রুমের ৩১/৩২ নং আয়াতে বলেন,।
مُنِيبِينَ إِلَيْهِ وَاتَّقُوهُ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ (31) مِنَ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا ۖ كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ (32)
অর্থ:
(৩১) (হে মু’মিনগণ!) তোমরা একনিষ্ঠ হয়ে আল্লাহর দিকে রুজু কর, আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সালাত কায়িম কর, আর মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। (৩২) যারা নিজেদের দ্বীনকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে গেছে, প্রত্যেক দলই নিজেদের কাছে যা আছে তা নিয়েই গর্বিত। (সূরা রুম: ৩১-৩২)
৪/ পরস্পর হিংসা, হাদিসে এসেছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: دَبَّ إِلَيْكُمْ دَاءُ الأُمَمِ قَبْلَكُمْ: الْحَسَدُ وَالْبَغْضَاءُ، وَالْبَغْضَاءُ هِيَ الْحَالِقَةُ، لاَ أَقُولُ: تَحْلِقُ الشَّعَرَ، وَلَكِنْ تَحْلِقُ الدَّدِينَ,
অর্থ *
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে পূর্ববর্তীদের রোগ চলে আসছে, (তা হলো) হিংসা ও বিদ্বেষ। যা মুণ্ডনকারী (বা মাথা কামানো)। আমি বলছি না যে, তা মাথার চুল কামিয়ে ফেলে, বরং তা দ্বীনকে কামিয়ে ফেলে। (তিরমিজি, হাদিস নং ২৫১০)
৫/ প্রচারের নেশা ডুকে যাওয়া যা আধুনিক যুগের নতুন সমস্যা,
• অর্থাৎ লোক দেখানো ইবাদত করা,
৬/ কাজের চেয়ে কথার আধিক্য বেশি হওয়া তাহলে কাজের উদ্দেশ্য নষ্ট হয়ে যাবে,
• আল্লাহ তায়ালা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ (2)
كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ (3)
অর্থ: হে মুমিনগণ, তোমরা কেন বল, যা তোমরা কর না? (২) আল্লাহর নিকট অত্যন্ত অসপ্রিয় যে তোমরা এমন কথা বল, যা তোমরা কর না। (৩) (সুরা সফ: ২-৩)
**** এই আয়াতরি নাযিলের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে সাহাবিদের ব্যাপারেও আবার মুনাফিদেরকেও উদ্দেশ্য করে নাযিল করা হয়েছে,
★ ইকরিমা (রাঃ) বলেন, বনু তামীম গোত্রের কিছু লোক রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যদি জানতাম কোন আমলটি সবচেয়ে বেশি সওয়াবের, তাহলে আমরা তা করতাম। তখন এই আয়াত নাযিল হয়। (তাফসীর ইবনে কাসীর)
• এই জিনিস টা বর্তমানে খুব বেশি, অনেকে ভলো তর্ক করতে পারে, অনেকে আবার ভালো বক্তৃতা দিতে পারে,কিন্তু কাজ করেনা,
• বেশি পরিকল্পনা কম বাস্তবায়ন,
৭/ আমাদের দ্বায়িত্বগুলো যদি আমরা আবেগ দিয়ে পরিচালনা করি, অর্থাৎ আমাদেরকে / আমাকে কোন স্থান বা কয়েকজন ভাইয়ের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়,
** সুরা নাহলের ১২৭ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,
وَاصْبِرْ وَمَا صَبْرُكَ إِلَّا بِاللَّهِ ۚ وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلَا تَكُ فِي ضَيْقٍ مِمَّا يَمْكُرُونَ
অর্থ:
আর আপনি ধৈর্য ধারণ করুন, আর আপনার ধৈর্য তো আল্লাহরই দান। আর তাদের জন্য শোক করবেন না, এবং তারা যে চক্রান্ত করছে, তাতে আপনি সংকীর্ণতায় পড়বেন না। (সুরা নাহল: ১২৭)
৮/ নং আয়াত পর্যাপ্ত ইলম যদি না থাকে আর যদি অতিরিক্ত তাথ্যিকতা থাকে তাহলে আমাদের পদস্খলন হবে,
* সুরা যুমারের ৯ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,
ۗ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ ۗ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُولُو الْأَلْبَابِ
বল, ‘জ্ঞানীরা এবং অজ্ঞরা কি সমান?’ বোধশক্তিসম্পন্ন লোকেরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে। (সুরা যুমার: ৯)
৯/ দ্বায়িত্ববোদের অভাব থাকা,
• সুরা সাফ্যাতের ২৪ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,
وَقِفُوهُمْ ۖ إِنَّهُمْ مَسْئُولُونَ
অর্থ: আর তাদেরকে থামাও, অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। (সুরা সাফ্যাত: ২৪)
১০/ নেতৃত্বে ভুল থাকা শুরা না থাকা,
সুরা আলে ইমরানের ১৫৯ নং আয়াতে এসেছে,
**
فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ ۖ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ ۖ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ ۖ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ
অর্থ: অতঃপর আল্লাহর রহমতে তুমি তাদের জন্য নরম-স্বভাব হয়েছিলে; আর যদি তুমি কঠোর ভাষী, কঠোর হৃদয় হতে, তবে তারা তোমার আশেপাশ থেকে দূরে সরে যেত। সুতরাং তাদেরকে ক্ষমা কর এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং কাজে তাদের সাথে পরামর্শ কর। অতঃপর যখন তুমি সংকল্প কর, তখন আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল কর। নিশ্চয় আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদেরকে ভালবাসেন। (সুরা আলে ইমরান: ১৫৯)