শাহাদাতের ফজিলত

إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَىٰ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ ۚ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ ۖ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ ۚ وَمَنْ أَوْفَىٰ بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ ۚ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُمْ بِهِ ۚ وَذَٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌র মুমিনদের কাছ থেকে তাদের জীবন ও মাল জান্নাতের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন।
সূরা আত-তাওবাহ -১১১
এটা হল শহীদ হওয়ার জন্য আল্লাহ্‌র সাথে একটি চুক্তি।
আল্লাহ্‌কে আমরা আমাদের সম্পদ ও জীবনকে দিব জান্নাতের বিনিময়ে।
আল্লাহ্‌র বলেছেন, اشْتَرَىٰ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ আল্লাহ্‌ এখানে শুধু মুমিনদের কথা বলেছেন। (আমাদের কথা বলেছেন।)
হাদিসে এসেছে,
مَنْ سَأَلَ اللَّهَ الشَّهَادَةَ بِصِدْقٍ بَلَّغَهُ اللَّهُ مَنَازِلَ الشُّهَدَاءِ وَإِنْ مَاتَ عَلَى فِرَاشِهِ
অর্থ: যেব্যক্তি আল্লাহর নিকট সত্যনিষ্ঠভাবে শাহাদাত (শহীদ হওয়া) কামনা করে, আল্লাহ তাকে শহীদদের মর্যাদায় পৌঁছে দেবেন, যদিও সে নিজের বিছানায় মারা যায়।
দলিল: সহীহ মুসলিম,হাদীস নং: ১৯০৯
অন্য হাদিসে এসেছে,
وَدِدْنَا أَنَّا نَرْجِعُ إِلَى دَارِ الدُّنْيَا فَنُقَتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ مَرَّةً أُخْرَى… وَمَا أَحَدٌ يُرِيدُ أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا وَأَنَّ لَهُ مَا عَلَى الْأَرْضِ مِنْ شَيْءٍ غَيْرُ الشَّهِيدِ
অর্থ:
“…আমরা আকাঙ্খা করি যে, যদি আমরা দুনিয়াতে ফিরে যেতে পারতাম এবং আল্লাহর রাস্তায় আবারও শহীদ হতে পারতাম… আর দুনিয়াতে যা কিছু আছে তার সবকিছুই যার হবে, এমন কেউই (জান্নাত থেকে) দুনিয়াতে ফিরে আসতে চাইবে না; শহীদ ছাড়া।”
দলিল: সহীহ বুখারী, কিতাবুল জিহাদ, হাদীস নং ২৮১৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৮০
আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ রদিঃ এর দুয়া বদরের যুদ্ধের সময়ের। তিনি বলেন,
اللَّهُمَّ ارْزُقْنِيْ رَجُلاً شَدِيدًا حَرِيْصًا عَلَى قَتْلِيْ مِنِّيْ أَنْفِي وَأُذُنِيْ، ثُمَّ أَلْقَاكَ وَأَنْتَ تَقُولُ: فِيْمَ ذَا أُذُنُكَ وَأَنْفُكَ؟ فَأَقُولُ: فِيْ سَبِيْلِكَ وَرِضَاكَ.
অর্থ:
“হে আল্লাহ! আমার সাথে এমন এক শক্তিশালী ও প্রচণ্ড শত্রুর মুখোমুখি করিয়ে দাও, যে আমার নাক ও কান কেটে ফেলবে। অতঃপর আমি তোমার সাথে সাক্ষাৎ করব, আর তুমি আমাকে জিজ্ঞেস করবে: ‘তোমার নাক ও কান কোথায়?’ তখন আমি বলব: ‘তোমার পথে ও তোমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য।”

দলিল: মুসনাদে আহমাদ (৩/১১২), সীরাত ইবনে হিশাম (২/২৬৩), তারিখুত-তাবারী (২/৪৩১),
খালিদ রদিঃ বলেন,
لقد شَهِدْتُ مِائَةَ مَوْطِنٍ أَوْ زَادَتْ، وَمَا فِي جَسَدِي مُوضعُ شِبْرٍ إِلَّا وَفِيهِ ضَرْبَةٌ بِسَيْفٍ، أَوْ رَمْيَةٌ بِسَهْمٍ، أَوْ طَعْنَةٌ بِرُمْحٍ، وَهَا أَنَا ذَا أَمُوتُ عَلَى فِرَاشِي حَتَّى لَا يَنَامَ الْأَشْجَعُ
অর্থ: “আমি একশতেরও বেশি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি, আমার দেহে এমন কোনো বর্গইঞ্চি জায়গা নেই যেখানে তরবারীর আঘাত, তীরের বিদ্ধ বা বর্শার খোঁচার চিহ্ন নেই। অথচ এখন আমি আমার বিছানায় মরছি। এভাবে মৃত্যু যেন কোনো সাহসী ব্যক্তিকে নিরুৎসাহিত না করে।”
এত এত যুদ্ধের পরও তিনি আকাঙ্ক্ষা করতেন শাহাদাতের।
এমন আকাঙ্ক্ষা নবী সাঃ ও করেছেন।
وَدِدْتُ أَنِّي أُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ
অর্থ: “আমি আকাঙ্খা করি যে, আমি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হই, পুনরায় জীবিত হই, আবার শহীদ হই, পুনরায় জীবিত হই, আবার শহীদ হই।”
দলিল:সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৭৯৭ (কিতাবুল জিহাদ)
সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৭৭ (ইমারাহ অধ্যায়)

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহিঃ বলেছেন, “শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা একজন মুমিনকে শুধু শক্তিশালী করে না বরং শত্রুর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।”
ইমাম ইবনুল কাইয়ুম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “শাহাদাত মৃত্যু নয়, এটি আল্লাহ্‌র সাথে সাক্ষাতের কামনা।”
মিলিটারি ভাষায় এটাকে বলা হয়, “ফেয়ার ইমিউনিটি” (Fair immunity.) শাহাদাতের তামান্নায় মৃত্যু ভয় চলে যায়।
(شيخنا الكرام حفظه الله)
মানুষ সবচেয়ে বেশি ভয় পায় মৃত্যুকে।
যখন কোন সৈনিক এই চিন্তা নিয়ে লড়াই করবে যে, আমি মৃত্যুবরণ করতে এসেছি। তখন সে যুদ্ধের ময়দানে সবচেয়ে ভয়ংকর হয়ে যায়।
যে ব্যক্তির মধ্যে মৃত্যুর ভয় নেই সে অপরাজেয়।
শত্রু যখন তোমাদের মৃত্যুর ভয় দেখাতে আসবে। তখন তারা নিজেরাই সাইকোল্যাজিক্যাল warfare এর শিকার হয়ে যাবে।
শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা দলকে শক্তিশালী করে দেয়। শহিদ হওয়া সাথীদের যুদ্ধের আকাঙ্ক্ষাকে বুস্ট করে দেয়।
শাহাদাতের তামান্না শত্রুকে সাইকোলজিকাল ভয় ধরিয়ে দেয়, এবং তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়।
وَزَادَتْهُمْ إِيمَانًا ۚ وَعَلَىٰ رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ
“এটি তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তারা তাদের রবের উপরই ভরসা করে।”
সূরা আলে-ইমরান, আয়াত ১৭৩
আফগানিস্তানে ২০০১ থেকে ২০ বছরের যুদ্ধ বিজয়ের পিছনে দুইটি কারণ ছিল, ১. مخلصين له الدين (এখলাস) ২. শাহাদাতের তামান্না।
যেমন আমরা আজকে ফিলিস্তিনে দেখতে পাচ্ছি। এটি তাদের টিকে থাকার পিছনে একমাত্র শক্তি।
শাহাদাত এটি “আল্টিমেট সাইকোল্যাজিক্যাল ইফেক্ট।” আল্লাহ্‌ আমাদের এই তামান্নার মাধ্যমে “ফেয়ার ইমিউনিটি ডকট্রিন” (fair immunity doctrine) হৃদয়ে তৈরি করে দিয়েছেন। (شيخنا الكرام حفظه الله)
যখন কোন একজন ব্যক্তি আল্লাহ্‌র সাক্ষাতের জন্য নদী, পাহাড়, বন অতিক্রম করে। তখন আল্লাহ্‌ তার পা গুলোকে দৃঢ় করে দেন।
رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
অর্থ: “হে আমাদের রব! আমাদের উপর ধৈর্য্য বর্ষণ করুন এবং আমাদের পদযুগল স্থির রাখুন এবং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে বিজয় দান করুন।”
সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৫০
যখন তাদের বুলেট শেষ হয়ে যায়। তাখন তারা বন্দুকের বাট দিয়ে লড়াই করেন। একজন শহীদ যখন শাহাদাতের জন্য মাথার মধ্যে লাল কাপড় বেধে ফেলে। তখন সে এমনি বিজয়ী হয়ে যায়। এটিকে “কালেকটিভ ভিক্টরি” (collective victory) বলে।
কখনো কখনো একজন শহীদ লাখো মানুষকে জাগিয়ে তোলে। যার কারণে লাখ লাখ মানুষ যুদ্ধের ময়দানে চলে আসে। শাহাদাতের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। যেমন, আমরা আসহাবে উখদুদের (اصحاب الخدود) মধ্যে দেখতে পাই, এক যুবকের শাহাদাত লাখো মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে।
আরবি:
قُتِلَ أَصْحَابُ الْأُخْدُودِ (1) النَّارِ ذَاتِ الْوَقُودِ (2) إِذْ هُمْ عَلَيْهَا قُعُودٌ (3) وَهُمْ عَلَىٰ مَا يَفْعَلُونَ بِالْمُؤْمِنِينَ شُهُودٌ (4) وَمَا نَقَمُوا مِنْهُمْ إِلَّا أَنْ يُؤْمِنُوا بِاللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ (5)
অর্থ: “ধ্বংস হয়েছে খন্দকওয়ালাদের জন্য। (1) যে অগ্নিতে প্রচুর ইন্ধন ছিল। (2) যখন তারা তার (অগ্নির) চারপাশে বসেছিল। (3) আর তারা মুমিনদের সাথে যা করছিল, তার উপর তারা স্বয়ং সাক্ষী ছিল। (4) তারা মুমিনদের থেকে শুধু এই কারণে প্রতিশোধ নিয়েছিল যে, তারা পরাক্রমশালী, প্রশংসিত আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিল। (5)”
সূরা আল-বুরুজ, আয়াত ৪-৮
আমাদের হৃদয়কে আমরা এমনভাবে তৈরি করবো, যেন যুদ্ধের ময়দানে আমরা শাহাদাত পাই। শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা কোন একটি বানিহীকে অপরাজেয় করে তোলে। যখন আপনি জানবেন, শাহাদাত হলো আল্লাহ্‌র সাথে সাক্ষাতের মাঝের চাদরের মতো। যা আপনাকে আল্লাহ্‌র সাথে সাক্ষাৎ করাবে। দুনিয়ার সকল কষ্ট থেকে মুক্তি দিবে। তখন কেউ আর আটকে রাখতে পারবে না।
এজন্যই, আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ রদিঃ বদরের যুদ্ধের সময়ে দুয়া করেছিলেন, আল্লাহ্‌ আমাকে তুমি এমন শত্রুর মুখোমুখি করো, যে আমার নাক কান কেটে দিবে। আর আমি এভাবে তোমার সাথে সাক্ষাৎ করি। আর তোমাকে হাজির হওয়ার পর যেন তুমি জিজ্ঞেস করলে আমি বলতি পারি। আমি তোমার রাস্তায় শহীদ হয়েছি।
আর মনে রাখতে হবে, আল্লাহ্‌ তাদেরকে যা নেয়ামত দেবেন, তারা তা দেখে আন্দন্দিত হবে। তারা হলেন শহীদ। যারা আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ দেখবেন, তাদের মধ্যে কি কোন দুঃখ থাকবে ? না।
فَرِحِينَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَيَسْتَبْشِرُونَ بِالَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُوا بِهِمْ مِنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
অর্থ: “তারা আল্লাহ নিজ অনুগ্রহ থেকে যা তাদের দিয়েছেন, তা নিয়ে আনন্দিত এবং তাদের পিছনে যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি, তাদের জন্যেও তারা আনন্দিত যে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।”
সূরা আলে-ইমরান, আয়াত ১৭০
সেই বাহিনী অপরাজেয় বাহিনী। তাদের কেউ পরাজিত করতে পারবে না। আর যারা মৃত্যুকে ভয় করে। তাদের পরাজয় অনির্বায।
তিনি বলেছিলেন, ওহুদের ঐ পাহাড় থেকে জান্নাতের ঘ্রান পাচ্ছি।
শাহাদাতের তামান্না বাড়ানোর উপায় হল বেশি বেশি ( حرض المؤمنين على القتال) মানুষকে আল্লাহ্‌র রাস্তায় উদ্ভুদ্ধ করা।
আল্লাহ্‌ জাফর (جعفر الطيأر) রদিঃ কে জান্নাতে উড়ার জন্য ২টি ডানা দিয়েছিলেন, মুতার যুদ্ধে।
আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রদিঃ মুতার যুদ্ধে একটি কবিতা পড়েছিলেন।
يَا نَفْسُ إِنْ لَمْ تُقْتَلِي تَمُوتِي * هَذَا حِمامُ المَوْتِ قَدْ صَلِيتِي
وَمَا تَمَنَّيْتِ فَقَدْ أُعْطِيتِ * إِنْ تَفْعَلِي فِعْلَهُمَا هُدِيتِ
অর্থ: “হেআমার নফস (আত্মা)! যদি তুমি নিহত না হও, তবুও তো মারা যাবেই (মৃত্যু তো সুনিশ্চিত)।
এটিমৃত্যুর উপহার, যা তুমি সামনে পেয়েছ (তোমার ভাগ্যে আছে)। তুমিযা আকাঙ্ক্ষা করেছিলে (শাহাদাত), তাই তো তোমাকে দেওয়া হয়েছে।
যদিতুমি তাদের (যুবাইর ও জাফর) দু’জনের মতো কাজ কর (জিহাদে অবিচল থাক), তবে তুমি সৎপথে পরিচালিত হবে।”
(এই কবিতাটিতিনি আবৃত্তি করেছিলেন যখন মুসলিম বাহিনী বিপুল সংখ্যক রোমান সৈন্যের মুখোমুখি হয়েছিল। তিনি নিজেকে এবং তার আত্মাকে উৎসাহিত করার জন্য এই কথাগুলো বলেছিলেন। এটি তার অদম্য সাহস, আল্লাহর উপর অগাধ বিশ্বাস এবং শাহাদাতের তীব্র আকাঙ্ক্ষার পরিচয় দেয়। এর পরপরই তিনি শাহাদাত বরণ করেন।)
আমাদের মধ্যেই কেউই এই কথা বলতে পারবে না যে, আমি মরবো না। তাহলে কেন মর্যাদার মৃত্যুর বরণ করবো না?
১৫,০০০ সাহাবা শহীদ হয়েছেন। ১ লক্ষ ৫০ হাজার সাহাবীদের সামনে বিদায় হজ্জের ভাষণ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রতি ১০ জনে ১ জন শহীদ হয়েছেন। সাহাবারা প্রত্যেকজন মুজাহিদ ছিলেন।
যারা শাহাদাতের তামান্না রাখবেন না, আল্লাহ্‌ তাদের কখনোই বিজয় দান করবেন না।
একজন শহীদ শুধুমাত্র নিজে সফলকাম নয় বরং আরো ৭০ জন মানুষের জন্য নাজাতের কারণ হবে।
جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا وَمَنْ صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ ۖ وَالْمَلَائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِمْ مِنْ كُلِّ بَابٍ
“চিরস্থায়ী জান্নাত, তারা তাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের পিতৃপুরুষ, স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল তারাও (তাদের সাথে প্রবেশ করবে)। আর ফেরেশতারা তাদের কাছে প্রত্যেক দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে।”
সূরা আর-রাদ, আয়াত ২৩
সুতরাং সবচেয়ে কাছের মানুষ যারা তাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাবে।
হাদিসে শহীদের ছয়টি বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে,
للشَّهِيدِ عِنْدَ اللَّهِ سِتُّ خِصَالٍ: يُغْفَرُ لَهُ فِي أَوَّلِ دَفْعَةٍ، وَيُرَى مَقْعَدَهُ مِنَ الْجَنَّةِ، وَيُجَارُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَيَأْمَنُ مِنَ الْفَزَعِ الْأَكْبَرِ، وَيُحَلَّى حُلَّةَ الْإِيمَانِ، وَيُزَوَّجُ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ، وَيُشَفَّعُ فِي سَبْعِينَ مِنْ أَقَارِبِهِ
অর্থ: “আল্লাহর নিকট শহীদের জন্য ছয়টি বিশেষ reward রয়েছে:

  1. তার সব গুনাহ প্রথম ঝটিতেই (রক্তের প্রথম ফোটা জমিনে পড়ার আগেই) ক্ষমা করা হয়।
  2. তাকে জান্নাতে তার স্থান দেখানো হয়।
  3. কবরের আজাব থেকে রক্ষা পাওয়া।
  4. কেয়ামত দিবসের বিভীষিকাময় মুহূর্ত থেকে নিরাপত্তা লাভ।
  5. ঈমানের সৌন্দর্য পরিধান করা।
  6. স্বর্ণখচিত চোখওয়ালা (চক্ষু শীতলকারী) হুরদের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়।
  7. তার সত্তরজন নিকটাত্মীয়দের জন্য শাফায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়।”
    দলিল: সুনান ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ২৮০০; সুনান তিরমিজি, হাদীস নং ১৬৬৩
    অন্য এক হাদীস এসেছে,
    وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا يُكْلَمُ أَحَدٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَنْ يُكْلَمُ فِي سَبِيلِهِ إِلَّا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَجُرْحُهُ يَثْعَبُ دَمًا اللَّوْنُ لَوْنُ دَمٍ وَالرِّيحُ رِيحُ الْمِسْكِ
    অর্থ: “সেই সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, আল্লাহর পথে যে ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হয়—আল্লাহ ভালো জানেন কে তাঁর পথে সত্যিকারভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে—সে কিয়ামতের দিন এভাবে উঠবে যে, তার আঘাত থেকে রক্ত প্রবাহিত হবে; রক্তের রং হবে রক্তের মতো, কিন্তু তার ঘ্রাণ হবে কস্তুরীর মতো।”
    দলিল: সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৮০৩
    সহīহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৭৬
    এবং সেই রক্তমাখা জামা সহ আল্লাহ সামনে উপস্থিত হবে।
    এজন্য শহীদের আলাদা কাফনের প্রয়োজন নেই।
    মুসআ’ব ইবনে উমায়ের রাঃ শাহাদাতের পর কাফনের কাপড় পাওয়া যায়নি, মাথা ডাকলে পা খুলে যাচ্ছিল, এবং পা ঢাকলে মাথা খুলে যাচ্ছিল। (অথচ তিনি একসময় ছিলেন মক্কার সবচেয়ে ধনী পরিবারের সন্তান)
    গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা:
    “এজন্য কখনো কাপড় অপচয় করা যাবে না।”
    “মুমিনদের অলংকার হলো শাহাদাতের রক্ত।” এগুলো তাদের জন্য অলংকার হবে। (شيخنا الكرام حفظه الله)
    আমরা আজ পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় মুমিনদের শহীদ হতে দেখাছি। তাদের ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হতে দেখছি। এই সবগুলো অলংকার হয়ে যাবে। যেমন: আজ আমরা আরাকান, এবং গাজায় দেখতে পাচ্ছি।
    আল্লাহ্‌র বলেন:
    إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ
    অর্থ: “নিশ্চয় যারা বলে, ‘আমাদের রব আল্লাহ’, অতঃপর তারা অবিচল থাকে, তাদের উপর ফেরেশতারা অবতীর্ণ হন (এবং বলেন), ‘তোমরা ভয় করো না এবং চিন্তিত হয়ো না, আর তোমরা সে জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর, যা তোমাদেরকে দেয়ার ওয়াদা করা হয়েছিল।'”
    সূরা হা-মীম আস-সাজদাহ, আয়াত ৩০
    মুসনাদে আহমদের একটি হাদিসে এসেছে: যে (মুমিন) গাজীরা মারা যাবেন, তাদের কাছে একদল সাদা (সূর্যের ন্যায় উজ্জ্বল চেহারার) কিছু ফেরেশতা আসবে। তাদের কাছে একটা সাদা কাফনের কাপড় থাকবে। তাদের বলবে হে প্রশান্ত আত্মা! বের হও।
    إِنَّ نُورَ الْمُؤْمِنِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقَدْرِ عَمَلِهِ وَإِنَّ أَنْوَاعًا مِنَ الْمَلَائِكَةِ لَيَأْتُونَ الشُّهَدَاءَ فِي قُبُورِهِمْ بِحِلَلٍ بِيضٍ وَيُبَشِّرُونَهُمْ بِالْجَنَّةِ
    “নিশ্চয় মুমিনের নূর (আলো) কিয়ামতের দিন তার আমলের পরিমাণ অনুযায়ী হবে। এবং নিশ্চয় বিভিন্ন প্রকারের ফেরেশতা শহীদদের কবরে সাদা পোশাক নিয়ে আসেন এবং তাদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দেন।” দলিল: মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ২৩৫৯
    تَأْتِي الْمَلَائِكَةُ الشَّهِيدَ فِي قَبْرِهِ فَتَقُولُ: اخْرُجْ أَيَّتُهَا النَّفْسُ الطَّيِّبَةُ كُنْتِ فِي الْجَسَدِ الطَّيِّبِ
    “ফেরেশতাগণ শহীদের কবরে এসে বলবেন: ‘হে পবিত্র আত্মা! বের হয়ে আসো, তুমি পবিত্র দেহে (জীবন যাপন) করেছ।'” মুসনাদ আহমাদ (হাদীস নং ২৩৫৯)

আমাদের যে হৃদয়ের তামান্না, আমরা শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা রাখবো। আমাদের মিশনের ব্যাপারে আমাদেরকে প্রচন্ড শক্তিশালী করে তুলবে।
নাবী সাঃ বলেছেন, কেয়ামতের দিন শহীদদের একটি মুকুট পরানো হবে। যা হবে দুনিয়া ও দুনিয়াতে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।
يُؤْتَى بِالشَّهِيدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَعَلَيْهِ تَاجُ الْكَرَامَةِ، يُفِيضُ أَشِعَّتُهُ أَضْوَأَ مِنَ الشَّمْسِ
“কিয়ামতের দিন শহীদকে আনা হবে, তার মাথায় সম্মানের মুকুট থাকবে, যার আলোকচ্ছটা সূর্যের চেয়েও বেশি উজ্জ্বল হবে।”
দলিল: সুনান ইবনে মাজাহ (হাদীস নং ২৮০০), মুসনাদ আহমাদ (হাদীস নং ২৩৫৯)
উমর রদিঃ বলেন,
“لَوْ أَعْطَانِيَ اللَّهُ مَمْلَكَةَ الدُّنْيَا كُلَّهَا ثُمَّ سَأَلَنِي أَنْ أُفَارِقَهَا لِأَلْقَى اللَّهَ بِشَهَادَةٍ لَفَعَلْتُ”
অর্থ: “আল্লাহ যদি আমাকে সমগ্র দুনিয়ার রাজত্বও দেন, তারপর আমাকে তা ত্যাগ করে আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের জন্য শাহাদাত বরণ করতে বলেন, তবে আমি অবশ্যই তা করব।”
দলিল: البداية والنهاية (৭/১৪৫), سير أعلام النبلاء (১/২৬)
এবং আল্লাহতালা ওনার এই আকাঙ্ক্ষা কবুল করেছিলেন, তিনি সমগ্র অর্ধ বিশ্বের রাজত্ব পেয়েও শাহাদাতের মর্যাদা অর্জন করেছিলেন।
আলী রাঃ বলেছেন,
“مَا أَحَبَّ أَنَّ لِي بِمَا أَصَابَنِي مِنَ الشَّهَادَةِ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا”
অর্থ: “শাহাদাতের মাধ্যমে আমি যা পেয়েছি, তার বদলে দুনিয়া ও দুনিয়ার সবকিছুই আমার জন্য প্রিয় হতো না।”
দলিল: ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের “ফাদাইলুস সাহাবাহ” (১/৪৬২)।
আব্দুল্লাহ ইবনে হারাম রদিঃ, ওহুদের যুদ্ধে শহীদ হলে নবী সাঃ বললেন,
إِنَّ صَاحِبَكُمْ قَدْ تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنْهُ وَأَدْخَلَهُ الْجَنَّةَ وَأَعْطَاهُ مِنْهَا رِزْقًا قَبْلَ أَنْ يَلْقَاهَا
অর্থ: “নিশ্চয় তোমাদের সাথী (আব্দুল্লাহ ইবনে হারাম)-কে আল্লাহ গ্রহণ করেছেন, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন এবং জান্নাতে প্রবেশের আগেই তাকে সেখান থেকে রিজিক দান করেছেন।”
দলিল: سيرة ابن هشام (সীরাতু ইবনি হিশাম) – ২/৮৫, البداية والنهاية (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া) – ৪/৩০
আমরা যেখতে পাই আরাকানে কি পরিমাণে শহীদ হয়েছেন। তাদের লাইন দিয়ে গুলি করে, গান পাউডার দিয়ে বাড়িঘর গুলো আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। দরজা গুলো বাহির দিয়ে লক করে ভিতরে গ্রেনেড নিক্ষেপ করে, ব্রাশ ফায়ার করে কি নির্মমভাবে শহীদ করা হয়েছে।
মুসনাদে আহমাদে একটি হাদিসে আছে,
إِنَّ اللَّهَ يُكَلِّمُ الشُّهَدَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِغَيْرِ حِجَابٍ
অর্থ: “নিশ্চয় আল্লাহ কিয়ামতের দিন শহীদদের সাথে কোনো পর্দা ছাড়া (সরাসরি) কথা বলবেন।”
দলিল: মুসনাদে আহমাদ (হাদীস নং ২৩৫৯)
(এক সাথী ভাই যিনি খুব পান খেতেন। উনি শহীদ হওয়ার পর শায়েখ তাকে একদিন স্বপ্ন দেখেছিলেন…
তিনি বলেছিলেন আল্লাহ আমার সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছেন।)
বিখ্যাত তাবেয়ি ও মুফাসসির (কেউ কেউ উনাকে সাহাবী বলেছেন) সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রাহিঃ) দোয়া করতেন,
اللَّهُمَّ اقْتُلْنِي فِي سَبِيلِكَ وَاجْعَلْ مَوْتِي فِي بَلَدِ رَسُولِكَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “হে আল্লাহ! তোমার পথে আমাকে শাহাদাত দান করুন এবং তোমার রাসূলের শহরে (মদিনায়) আমার মৃত্যু ঘটান।”। দলিল: সিয়ারু আলাম আন-নুবালা (৪/৩২১)
এবং বলেছিলেন, আমাকে শহীদ করো এবং এর মাধ্যমে আমার পরিবারকে জান্নাতি করো।
ওহুদের যুদ্ধের দিন যারা শহীদ হলেন, তাদের ব্যাপারে বলেছেন,
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا مِنْ أَحَدٍ يُجْرَحُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلَّا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَجُرْحُهُ يَدْمَى، اللَّوْنُ لَوْنُ دَمٍ وَالرِّيحُ رِيحُ مِسْكٍ
অর্থ: “সেই সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, আল্লাহর পথে যে কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হয়, সে কিয়ামতের দিন এভাবে উঠবে যে তার আঘাত থেকে রক্ত প্রবাহিত হবে; রং হবে রক্তের মতো, কিন্তু তার ঘ্রাণ হবে কস্তুরীর মতো।” দলিল: সহীহ বুখারী (হাদীস নং ২৮০৩), সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ১৮৭৬)
“শাহাদাত একটি ইমিউনিটি সিস্টেম। যা আমাদের শক্তি যোগায়।”
“শাহাদাত এমন এক সৌন্দর্য। যা সব সৌন্দর্য্যের চেয়ে সুন্দর।”
“শাহাদাত এমন এক চাদর যার উপরে হয় আর ভিতরে আনন্দে ভরা”
(شيخنا الكرام حفظه الله)
আল্লাহ বলেন,
وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَٰئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ ۚ وَحَسُنَ أُولَٰئِكَ رَفِيقًا সস
অর্থ: “আর যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে, তারা সে সব লোকের সঙ্গে থাকবে, যাদের উপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন; যথা, নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীলগণ। আর এরা কত উত্তম সঙ্গী!”
দলিল: সূরা আন-নিসা, আয়াত ৬৯
নবুয়তের দরজা বন্ধ কিন্তু শহীদদের মধ্যে বাকি ৩টি কোয়ালিটিই আছে। শহীদ হওয়া, তারা সিদ্দিক হন আর তারা সবচেয়ে উত্তম আমল করেন জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ, তাই তারা সলেহীন।
এরা হলেন সেই সমস্ত শহীদ যাদেরকে ক্ষমা করা দেয়া হয়েছে,
যাদের কোয়ালিটি সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কোরআনে বলেছেন:
إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَىٰ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ এর পরের আয়াতে:
التَّائِبُونَ الْعَابِدُونَ الْحَامِدُونَ السَّائِحُونَ الرَّاكِعُونَ السَّاجِدُونَ الْآمِرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّاهُونَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَالْحَافِظُونَ لِحُدُودِ اللَّهِ ۗ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ
অর্থ: “তারা হলো তাওবাকারী, ইবাদতকারী, প্রশংসাকারী, রোযাদার, রুকুকারী, সিজদাকারী, সৎকাজের আদেশদানকারী, অসৎকাজে নিষেধকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমাসমূহের হিফাযতকারী। আর আপনি মুমিনদেরকে সুসংবাদ দিন।”
সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত ১১২
সমস্ত নবীগণ মাসুম/বেগুনাহ ছিলেন। এটি আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকিদা। যে বা যারা এটি বিশ্বাস করে না। তাদের আকিদায় সমস্যা আছে।
উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত আলেম তার তাফসিরের কিতাবে সূরা নাসরের ব্যাখ্যায়
فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ ۚ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا
অর্থ: “অতএব, আপনি আপনার রবের প্রশংসাসহ তার পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি তাওবা গ্রহণকারী।”
সূরা আন-নাসর, আয়াত ৩
এখানে استغفر এর ভুল ব্যাখ্যা করেছেন, তিনি বলেছেন রসূলকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। অথচ রসুলের কোন গুনাহই ছিল না। নবীগন হলেন মা’সুম/নিষ্পাপ।
আল্লাহ্‌র ভালোবাসার সাথে রসূলের ভালোবাসা শর্ত যুক্ত। নবী সাঃ কে যদি কেউ ভালো না বাসে। তাহলে সে আল্লাহ্‌ ও তার দ্বীনকে ভালোবাসে না। যে রিসালাতকে ভালোবাসে না। তার মধ্যে দ্বীনের ব্যাপারে কোন জ্ঞান নেই।
محمد کی محبت دین حق کی شرط اول ہے
بغیر اس کے سب عبادتیں بے ثمر و بے حاصل ہے
اس کی محبت دل میں ہو تو ہر عمل قبول ہے
ورنہ سب ریا کاری اور سب کچھ باطل ہے
محمد سے وابستگی ہی تو ایمان کی بنیاد ہے
اس بغیر تو دین کی عمارت بے اساس ہے
ان کے نقش قدم پر چلنا ہی تو کامیابی ہے
یہی شرط اول ہے، یہی راہ نجات ہے
অনুবাদ:

  1. “মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালবাসাই সত্য দ্বীনের প্রথম শর্ত।
    এটি ছাড়া সকল ইবাদত নিরর্থক ও ফলবিহীন।”
  2. “যদি হৃদয়ে তাঁর প্রতি ভালবাসা থাকে, তবে প্রতিটি কাজই গ্রহণযোগ্য হয়।
    অন্যথায় সবই কেবল লোকদেখানো ভান এবং বাতিল।”
  3. “মুহাম্মদ (সা.)-এর সাথে সম্পর্কই তো ঈমানের ভিত্তি।
    এটি ছাড়া দ্বীনের কোনো স্থায়িত্ব বা ভিত্তি নেই।”
  4. “তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করাই তো প্রকৃত সাফল্য।
    এটিই প্রথম শর্ত, এবং এটিই মুক্তির পথ।”
    আমরা আল্লাহ্‌র রাসূলকে আমাদের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। আমরা নবী সাঃ এর সম্মানের জন্যে আমাদের ধনিতে যতক্ষণ রক্ত থাকবে। আমরা ততক্ষণ লড়াই করে যাবো। যদি কোন জামায়া’য় ভাইদের মধ্যে নবী সাঃ এর ব্যাপারে ভালোবাসা না থাকে। তাহলে তারা সঠিক পথে নেই।
    অনেকেই আছেন, যারা নব্য জাহেল। তারা আল্লাহ্‌র সাথে নবী সাঃ এর নাম নেয়া হয়। তাহলে তারা বলে এটা শিরক হয়ে যাবে। এরা ভয়ংকর রকমের গুমরাহ। কোন সিম্পল গোমরাহ না।
    সিদ্দিকদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত ছিলেন। আবু বকর আস সিদ্দিক রদিঃ। তিনি মুজাহিদ ছিলেন। সলেহীন ছিলেন। তার সাথে শহীদগণ থাকবেন।
    যারা শহীদ হবেন তারা নবী সাঃ এর সাথে জান্নাতে থাকবেন।
    “সকল উপাধির উপরে বড় উপাধি হচ্ছে শহীদ উপাধি।”
    শহীদদের জন্য নির্দিষ্ট হুর রাখা হয়েছে। যারা সকল খারাবী থেকে পবিত্র। এই ব্যাপারে গ্যারান্টি আছে। তাদের শুধু সেই ব্যক্তিদের জন্যই তৈরি করা হয়েছে। এবং তারা শুধু তাদের নিয়েই ভাবেন। (দুনিয়ার কোন নারীর এই ধরনের পবিত্রতার ব্যাপারে গ্যারান্টি দেওয়া যাবে না। যেটা জান্নাতের হুরদের মধ্যে রয়েছে।) এজন্য দুনিয়াতেও আমাদেরকে পবিত্র রাখতে হবে।
    মুতার যুদ্ধে যারা শাহাদাত বরণ করেছিলেন। তাদের ব্যাপারে নবী সাঃ স্বপ্ন দেখেছিলেন।
    رَأَيْتُ اللَّيْلَةَ فِي الْمَنَامِ أَنَّ أَصْحَابَكَ هَؤُلَاءِ الَّذِينَ قُتِلُوا بِمُوتَا قَدْ أُدْخِلُوا الْجَنَّةَ هُمْ وَأَزْوَاجُهُمْ

অর্থ:
“আজ রাতে আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, মুতার যুদ্ধে তোমাদের শহীদ সাথীদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে, তারা এবং তাদের স্ত্রীরা (একসাথে)।”
দলিল:‌ সুনান আন-নাসাঈ (হাদীস নং ۳۱۸۷),

মুসনাদ আহমাদ (হাদীস নং ۱۸۱۲)
এবং এক্ষেত্রে চারজন স্ত্রী থাকলে চারজনই জান্নাতী।
নবী সাঃ বলেছেন,
إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَنَهْرًا يُقَالُ لَهُ الرَّحِيقُ الْمَخْتُومُ، يَشْرَبُ مِنْهُ الشُّهَدَاءُ، أَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ وَأَبْرَدُ مِنَ الثَّلْجِ وَأَطْيَبُ رَائِحَةً مِنَ الْمِسْكِ
অর্থ: “নিশ্চয় জান্নাতে একটি নহর রয়েছে, যার নাম ‘আর-রাহীকুল মাখতূম’। শহীদরা তা থেকে পান করবেন। এটি মধু থেকে মিষ্টি, বরফ থেকে ঠান্ডা এবং কস্তুরী থেকে সুগন্ধিযুক্ত।”
দলিল: মুসনাদ আহমাদ (হাদীস নং ২৩৫৯), সহীহ ইবনে হিব্বান (হাদীস নং ৪৬৪৩)
এটি শহীদদের জন্য জান্নাতে এক বিশেষ পানীয়। যা শুধু তাদেরকেই দেয়া হবে। কেননা তাদের শরীর থেকে রক্ত বের হয়েছিল।
আলী রদিঃ বলেন,
إِنَّ اللَّهَ أَعَدَّ لِلشُّهَدَاءِ شَرَابًا لَمْ يَذُقُوهُ فِي الدُّنْيَا، أَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ وَأَبْرَدُ مِنَ الثَّلْجِ، يُسَكِّنُ حَرَّ الْقَتْلِ وَيُذْهِبُ هَمَّ الدُّنْيَا
“নিশ্চয় আল্লাহ শহীদদের জন্য এমন এক পানীয় প্রস্তুত রেখেছেন যা তারা দুনিয়াতে কখনো আস্বাদন করেনি; এটি মধু থেকে মিষ্টি, বরফ থেকে ঠান্ডা, যা (শাহাদাতের সময়ের) হত্যার জ্বালা প্রশমিত করবে এবং দুনিয়ার সকল চিন্তা দূর করবে।”
দলিল: মুসনাদ আবি ইয়া’লা (হাদীস নং ৪৫৬)
যা পান করলে মানুষ আরো বেশি উৎফুল্ল হবে। দুনিয়াতে তারা যে রক্ত দিয়েছে তার প্রতিদান সরূপ।
“জান্নাতে বোরিং বলতে কিছু থাকবে না। আজ আমরা কোন কিছু পেলে যে পরিমাণে খুশি হই। তার থেকে হাজার হাজার গুণ বেশি আনন্দ আমাদের মধ্যে দিয়ে দেয়া হবে।”
“মুত্তাকির আরেকটি মানে হলো, তারা আল্লাহ্‌ ছাড়া কাউকে ভয় পায় না।” (شيخنا الكرام بارك الله في حياته)
আর মুত্তাকি ছাড়া শহীদ হওয়া যায় না।
উমর ইবনে খাত্তাব রদিঃ বলতেন, আমাকে যদি দুনিয়ার বাদশা বানানো হয়। আমি তার থেকে উত্তম মনে করি আল্লাহ্‌র রাস্তায় শাহাদাত বরণ করা। আল্লাহ্‌ তার এই আকাঙ্ক্ষাকে কবুল করেছেন।
যে দুনিয়াতে আমরা আকাশের তারকার দিকে তাকাই। আর জান্নাত থেকে জান্নাতীরা তারকার চেয়েও বেশি উজ্জ্বল জান্নাত দেখতে পাবে। তারা বলবে সেটা শহীদদের জান্নাত।
দুনিয়ার আমলের দ্বারা ওলীদের তুলনায়। আল্লাহ্‌ শহীদদের জন্য বেশি সম্মান রেখেছেন।
দুনিয়ার জীবন এত ছোট। এটা আখেরাতের তুলনায় যদি বিশ্লেষণ করা হয়। তাহলে এটি খুবই শর্ট টাইম।
পুরো পৃথিবীকে যদি শস্যদানা দিয়ে ভরে দেয়া হয়। আর ১ হাজার বছর পরপর যদি অন্য একটি গ্রহ থেকে একটি পাখি আসে এবং তার আসা যাওয়াতে এক হাজার বছর ধরে সময় লাগে। আর সে একটি করে শস্য দ্বারা খেয়ে চলে যায়, তাহলে একদিন এই শস্যদানা শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু আখেরাতের জিন্দেগি শেষ হবে না।
আবু হুরায়রা রদিঃ বলেছেন, কিয়ামতের দিন মানুষ ঘামতে থাকবেন। কিন্তু শহীদরা ঘামবে না। আরা নিশ্চিন্তে সেখানে থাকবেন।
আমরা যা দেখি ভাইরা আল্লাহ্‌র রাস্তায় গিয়ে মারা যাচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যেই রয়েছে হায়াত। যা আমরা বুঝি না।

Share the Post:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *